Feature news

Showing posts with label সংবাদ. Show all posts

এই প্রথম মিলল গৌতম বুদ্ধের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ!

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কোথায় জানেন কী? নেপালের লুম্বিনিতে। আর সেখানেই এক প্রাচীন মন্দিরে খননকার্য চালানোর সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকের আরেকটি অজানা কাঠামো। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটা পৃথিবীর প্রাচীনতম বৌদ্ধমন্দির বা প্যাগোডা। ইতোপূর্বে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম বৌদ্ধমন্দির ছিলো সম্রাট অশোকের সময়কালের। তবে এখন জানা গেছে যে সেটা এই মন্দিরের অনেক পরে তৈরি হয়, মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে- যখন সম্রাট অশোক আফগানিস্তান থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত বৌদ্ধধর্ম ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। এই আবিষ্কারের সাথে জড়িত গবেষকরা কাজ করছিলেন লুম্বিনির মায়া দেবী মন্দিরে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির আংশিক অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিলো এদের কাজ। তবে সাম্প্রতিক এই আবিষ্কারের অর্থায়ন করছে মূলত জাপান সরকার এবং নেপাল সরকার যা রয়েছে ইউনেস্কোর এক প্রকল্পের অধীনে যার লক্ষ্য হলো লুম্বিনির সংরক্ষণের প্রচেষ্টা শক্তিশালী করা।ধ্যানরত সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী এবং দর্শনার্থীদের মাঝেই তাদের খননকার্য চালাতে হয়। Antiquity জার্নালে প্রকাশিত তাদের গবেষণার তথ্যে এসব প্রত্নতাত্বিকেরা বর্ণনা করেন কিভাবে লুম্বিনি থেকে শুরু হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই গবেষণার সাথে জড়িত ডারহ্যাম ইউনিভার্সিটির রবিন কানিংহ্যাম এর মতে, বুদ্ধের ব্যাপারে খুব কমই জানা গেছে এখন পর্যন্ত। এ কারনেই তারা প্রত্নতাত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এখানে অনুসন্ধান করার উৎসাহ পান। আর তা করতে গিয়েই মায়া দেবী মন্দিরে এই প্রাচীন কাঠামো খুঁজে পান তারা।

বৌদ্ধ ধর্মানুসারে, রানী মহামায়া দেবী লুম্বিনি বাগানের একটি গাছের ডাল ধরে থাকা অবস্থায় বুদ্ধের জন্ম দেন। গৌতম বুদ্ধ বেড়ে ওঠেন বিলাস ও প্রাচুর্যের মাঝে, কিন্তু ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগী হয়ে তিনি বোধনের সন্ধান শুরু করেন। কনিংহ্যাম বলেন, বুদ্ধের জন্মের সময়টাই এমন যে তখন শাক্য জাতির মানুষের মাঝে সামাজিক অনেক পরিবর্তন আসা শুরু করছিলো। প্রাচীন এই লুম্বিনি কালের গ্রাসে হারিয়ে যায় নেপালের বন-জঙ্গলের মাঝে। ১৮৯৬ সালে এক খুঁজে পাওয়া যায় এবং বুদ্ধের জন্মস্থান বলে শনাক্ত করা হয়। সম্রাট অশোকের সময়কালের এক নিদর্শন থেকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

গবেষকদের মতে এই আবিষ্কার যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ কারণ পৃথিবীর প্রথম বৌদ্ধমন্দির হতে পারে এটি। আর এই মন্দির তৈরি হয়েছিলো একটি গাছকে ঘিরে। গবেষকরা খননের সময়ে গাছের শেকড় এবং কাঠের কোনো কাঠামোর চিহ্ন খুঁজে পান একটি কিছু ইঁটের স্তুপের নিচে। কাঠের এই গঠনের মাঝে ছিলো একটি উন্মুক্ত জায়গা। এ থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন এটাই হতে পারে সেই স্থান যেখানে বোধন হয় বুদ্ধের। বুদ্ধের অস্তিত্ব এবং অবস্থানের এই প্রথম কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলো।
খননের ফলে প্রাপ্ত চারকোলের টুকরো এবং বালির কণা পরীক্ষা করে দেখা হয় রেডিওকার্বন এবং অপ্টিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেসেন্স পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর ফলেই নির্ণয় করা যায় এগুলো সেই খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকের। এই মন্দিরের মধ্যভাগে কোনও ছাদ ছিলো না। এ থেকেও ধারণা করে নেওয়া যায় এই স্থাপনার কেন্দ্রে একটি গাছ ছিলো।

একটি প্রেস কনফারেন্সে কনিংহ্যাম বলেন, এটা এমন এক দুর্লভ মুহূর্ত যেখানে ধর্ম এবং বিজ্ঞান পাশাপাশি অবস্থান করছে। বৌদ্ধ ধর্মানুসারে, বুদ্ধের বোধি লাভ হয় একটি বৃক্ষের নিচে এবং গবেষকেরাও একটি বৃক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মন্দির খুঁজে পেয়েছেন যা খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকের মত প্রাচীন সময়ে তৈরি হয়। আরও বলা হয়, এর আগে ওই এলাকায়(নেপালে) বৃক্ষ কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোনও মন্দিরের খোঁজ পাওয়া যায় নি। সুতরাং সম্ভাবনা আছে যে এটাই হতে পারে সেই বৃক্ষ যার ডাল ধরে মহামায়া দেবী জন্ম দিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধকে।
Learn more »

দালাই লামা রক্তাক্ত! ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মুখের ছবি

তিনি শান্তির প্রতীক। কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মুখের ছবি। ঠোঁটে কাটা দাগ। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। থেঁতলে গেছে দুই চোখ। চশমাটিও ফেটে গেছে। এই ছবি দেখে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মনে ওঠে তা হলো, ইনি কি সত্যিই দালাই লামা! হ্যাঁ, ইনি দালাই লামা। কিন্তু এর সঙ্গে কোনো বিরূপ ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কি এমন ছবি ব্যবহার করে কোনো নিম্নরুচির ঠাট্টা করার চেষ্টা করা হয়েছে? না, তাও নয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেলজিয়ামে 'নির্যাতন বন্ধ করো' শিরোনামে একটি প্রচার অভিযান চালায়। এতে বিশ্বের তিনজন বিখ্যাত ব্যক্তির বিধ্বস্ত মুখমণ্ডলের ছবি ব্যবহার করা হয়। তারা হলেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা, আমেরিকার রক স্টার ইগি পপ এবং জার্মানির ফ্যাশন ডিজাইনার কার্ল ল্যাজারফিল্ড। তাঁদের ছবি ব্যবহার করে নির্যাতনের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে চেয়েছে অ্যামনেস্টি।
খবরে বলা হয়েছে, এই তিনজনের মুখমণ্ডলের ছবি ব্যবহার করে বেলজিয়ামসহ ইউরোপে মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। নির্যাতিতরা কিভাবে নারকীয় নিষ্ঠুরতার শিকার হন, তা মানুষের মধ্যে তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র : এই সময়
Learn more »

হাজার বছরের চর্যাপদ মুখস্ত করলেন ঢাবি ছাত্র জাকেরুল ইসলাম কায়েস

খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বাংলাভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ ‘চর্যাপদ’ সম্পূর্ণ মুখস্থ করা প্রায় দুঃসাধ্য কর্মটি করে দেখিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের ছাত্র জাকেরুল ইসলাম কায়েস। খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা। বাংলামেইল-ডট-কম
এ ব্যাপারে জাকেরুল ইসলাম কায়েস জানিয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরু থেকে চর্যাপদের প্রতি আমার একটা আকর্ষণ ছিল। এক সময় চিন্তা করলাম এটি মুখস্ত করা যেতে পারে। সেখান থেকেই মুখস্ত করা। আসলে ইচ্ছে করলে মানুষ অনেক কিছুই পারে।’
এদিকে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আরসি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘চর্যাপদ’ মুখস্ত পরিবেশন করবেন বলে জানান তিনি।
অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি; ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম এমপি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এবং কবি, লেখক ও শিল্পী মো. আব্দুর রশিদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রসিদ্ধ অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘চর্যাপদ মুখস্ত করা প্রকৃত পক্ষে কঠিন ও দুঃসাধ্য কাজ। কিন্তু জাকেরুল তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এটি মুখস্ত করেছে। এটি তার মুখে শুনে মানুষ বুঝতে পারবে আমাদের ভাষা হাজার বছর আগে কেমন ছিল।’
উল্লেখ্য, চর্যাপদের ভাষা বাংলা কি না সে বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেটির অবসান হয়। এটি সৃজ্যমান বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। চর্যাপদের রচয়িতা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা সংস্কৃতে পারদর্শী হলেও তারা তৎকালীন অপরিণত বাংলাতেই পদগুলো রচনা করেছিলেন। চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার অদ্যাবধি আবিষ্কৃত আদিতম রূপ। হিন্দি, উড়িষ্যা বা মৈথিলি বিজ্ঞজনেরা এই ভাষায় নিজেদের পূর্বসুরিত্বের সন্ধান করলেও ভাষাবৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ফল বাংলা ভাষারই অনুকূল। এই ভাষা সম্প্রদায় বিশেষের সাধন-সংগীতের ভাষা বিধায় অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য; যদিও এতে উল্লিখিত ছন্দ ও রাগ-রাগিনী পরবর্তীকালের বাঙালি কবিদের পথনির্দেশিকারূপে কাজ করে।
সূত্র: বাংলামেইল-ডট-কম
সূত্র:  http://dhammainfo.com
Learn more »

বৌদ্ধ নারীদের ভিন্ন-ধর্মাবলম্বীর সাথে বিয়ে নিষিদ্ধঃ আইন করছে মিয়ানমার সরকার

ইয়াঙ্গুনের একটি মফস্বল শহরে বাস করেন উইন নিয়াং নামে এক মুসলমান। তাঁর স্ত্রী বৌদ্ধ এবং তাঁরা ৩০ বছর ধরে সংসার করে যাচ্ছেন। কথা প্রসঙ্গে উইন নিয়াং জানান, বিয়ের সময় তাঁর কাছে মনে হয়েছিল ধর্ম কোন বিষয় নয়, প্রধান হল তাঁর স্ত্রীর নৈতিক চরিত্র ও নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া। তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই বোঝাপড়ার মাধ্যমে আমাদের সংসারের সব কাজ করে আসছি”।
তবে এমন ঘটনা হয়তো আর দেখা যাবেনা মিয়ানমারে। বৌদ্ধ ধর্ম ও সমাজের অবক্ষয় রোধ করার লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার এবার বৌদ্ধ নারীদের ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিয়ে আইন করে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল এখন সংসদে আলোচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় এই বিলটি পাশ হলে বৌদ্ধ নারীরা অন্য ধর্মের কোন পুরুষের সাথে বিয়ে করা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
গত বছরের জুন মাসে "আন্তঃধর্মীয় বিবাহ আইন" নামের এই বিলটির একটি খসড়া তৈরী করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট সবার কাছে মতামতের জন্যে পাঠানো হয়। মিয়ানমারের হাজারো বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বিরাজমান ১৯৫৪ সালের বিবাহ আইনটি অত্যন্ত দূর্বল বলে মনে করছেন যার প্রেক্ষিতে সম্মিলিতভাবে এই নতুন বিল্টি প্রণয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
প্রস্তাবিত আইন মতে, কোন বৌদ্ধ নারী যদি ভিন্ন ধর্মের কোন পুরুষকে বিয়ে করতে চায় তবে তাকে অবশ্যই তার পিতা-মাতা এবং সরকারের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মর্তাদের অনুমতি নিতে হবে যা বাস্তবে প্রকারান্তরে অসম্ভবই বলা চলে।
আইনের যে কোন ধারা বিন্দুমাত্র ভঙ্গ হলেই কমপক্ষে ১০ বছরের জন্যে জেল দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত খসড়া আইনে।
এই আইনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইয়াঙ্গুনের এক বৌদ্ধ ভিক্ষু পামোক্ষা বলেন, “সামাজিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে অন্য ধর্মের আইন-কানুন বৌদ্ধ ধর্মের চাইতে অনেক অনেক বেশী কড়া। আমাদের এই আইনটি অত্যন্ত প্রয়োজন কারন বৌদ্ধ সমাজে নারীদের সুরক্ষায় আমাদের কাছে আর কোন আইনি বিধান এখন পর্যন্ত নেই”।
তবে নারীরাই খোদ এ নিয়ে ক্ষুব্ধ। এই আইনকে মিয়ানমারের নারী অধিকার কর্মীরা নিজেদের জন্যে অপমানজনক মনে করছেন।
নারীদের অধিকার, শিক্ষা, ও স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে কাজ করেন “জেন্ডার ইকুয়ালিটি নেটওয়ার্ক” –এর সিনিয়র ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন কোর্ডিনেটর মে সাবে ফিউ বলেন, “আমাদের নারীদের দৈনন্দিন জীবনের নিজ নিজ স্বিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আমাদের নিজেদেরই আছে। সুতরাং কোন সরকার কিংবা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করার অধিকার নেই”।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ইতিমধ্যেই এই আইনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ –এর এশিয়া জোনের পরিচালক ব্র্যাড এডামস মনে করেন, বার্মা ঐতিহাসিকভাবেই বহু-সাংস্কৃতিক একটি জাতি। সরকার “আন্তঃধর্মীয় বিয়ে” নিষিদ্ধের যে বিভাজনমূলক আইন প্রণয়ণ করতে যাচ্ছে সেটা নিঃসন্দেহে আগুন নিয়ে খেলার সমতুল্য।
গত ২০১৩ সালের জুন মাসে এই বিলটি প্রস্তাবিত হওয়ার পর থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ইতিমধ্যে এই বিলের সমর্থনে ৩০ লাখেরো বেশী মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন।
তবে নারী অধিকার কর্মী মে সাবে ফিউ বিলটি আইনে পরিণত হলেও নানা ধরনের অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সংঘাতে হাজারো লোকের প্রাণহানীসহ লাখো মানুষ গৃহহীন হয়েছে মিয়ানমারে।

খবরঃhttp://dhammainfo.com
Learn more »

অন্ধকার জগতের বাসিন্দা


অন্ধকার জগতের বাসিন্দা
অন্ধকার বলতে আমরা সচরাচর বুঝে থাকি যেখানে একবিন্দু আলোর সন্ধান পাওয়া যায় না বা দেখা যায় না তাকে। কিন্তু আমাদের মনোজগতে যে অন্ধকার রয়েছে থাকে আমরা অন্ধকার বলিনা কিংবা মানতে নারাজ। কারন আমরা যেটা জানি বা বুঝি সেটাকে নিয়ে আস্ফালন করি, কিন্তু বুঝার বা জানার চেষ্টা করিনা যে, আমি যেটা জানি বা বুঝি তা কি আদৌ সত্য? সত্যকে ধারন করে অন্ধত্বকে দূরীভূত করাই হল প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। কারণ সত্য মানুষকে আলোর পথ দেখাতে সক্ষম এবং সত্য সব সময় সত্য আর অন্ধত্ব মানুষকে নিমজ্জ্বিত রাখে অন্ধকারে এবং সে চেষ্টায় রত থাকে যে কিভাবে আলোকে চেপে রাখবে। তাই বিশ্বের মধ্যে যত পন্ডিত  জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে আমাদের মাঝে স্মরনীয় হয়ে আছেন তারা সবাই অন্ধত্বকে বর্জন করেছেন। তারা সত্যকে অবলম্বন করেছেন বলেই আলোর সন্ধান পেয়েছেন এবং প্রজ্ঞা বা জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন আমরা যারা মানুষ হিসেবে আছি বা পরিচয় প্রদান করি আমরা যদি একটু চিন্তা করি তাহলে বুঝতে পারব মানুষ হিসেবে আমি কতটুকু প্রজ্ঞা বা জ্ঞান অর্জন করেছি নাকি অন্ধকার জগতে নিজেকে নিমজ্জ্বিত রেখেছি। যদি প্রজ্ঞা বা জ্ঞান অর্জন না করি অন্ধকার জগতে নিজেকে নিমজ্জ্বিত রাখি তাহলে আমি প্রজ্ঞা বা জ্ঞান অর্জন করছিনা কেন এবং আলোর সন্ধান করছিনা কেন? তাহলে আমরা কি অন্ধকার জগতের বাসিন্দা ! এভাবেই কি আমাদের জীবন অন্ধকারে ঢেকে যাবে, যদি তাই হয় তাহলে আমি মানুষ কেন। মানুষ হয়ে আমাদের করণীয় কি এইটুকু চিন্তা চেতনা যদি আমাদের মাঝে না আসে তাহলে আমাদেরকে একদিন দেখতে হবে তিলে তিলে গড়া যে সমাজ সে সমাজ চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে গেছে, তিলে তিলে গড়া যে সদ্ধর্ম তা একদিন মিথ্যার চাদরে ঢেকে যাবে। সত্য এবং আলোকবর্তিকা যেটুকু বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে হয়ত একদিন দেখবো তাও বিলীন হয়ে গেছে অতল সমুদ্রে। এর একমাত্র কারণ বা দায় আমাদের সচেতনতার অভাব। এই সচেতনতার অভাবের কারনে আমাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন থেকে আমরা বঞ্চিত, আলোর সন্ধান থেকে বিরত। এই সুযোগ পেয়ে সুযোগ সন্ধানীরা আমাদের পিছু ছাড়ছে না এবং ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত রেখেছে। সম্যক পথ, সত্য পথ অনুসন্ধান করার অভ্যাস আমাদের নেই বলে কিংবা যেটা জানছি সে সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারনা নেই বলে আজ আমরা অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে বসবাস করছি। আমরা বুঝতে চেষ্টা করিনা যে, আমরা যে অন্ধত্ব বরণ করে পথ হাঁটছি তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ এবং তারা যখন একদিন সত্যকে জানতে পারবে পূর্বেই উল্লেখ করেছি সত্য সব সময় সত্য, সে সত্যকে অবলম্বন করে আলোর সন্ধান বাড়বে তখন কিন্তু আজকে যারা সত্যকে মিথ্যার চাদরে ঢেকে রাখার চেষ্টায় রত এবং অন্ধত্ব বরণ করে দিন কাটাচ্ছে তাদেরকে ধিক্কার দিবে এবং তাদেরকে স্মরণ করা দূরে থাক তাদের নাম ও মুখে আনবে না (যদি আনে ঘৃণার মাধ্যমে স্মরণ করবে) বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমান সময়ে আমরা এমন একটি সময় পার করছি যে সময়ে আলোর সন্ধান করার কথা, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করার কথা সদ্ধর্মকে  সম্যকভাবে জানার কথা সে সব কিছু বিসর্জন দিয়ে মিথ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছি, অন্ধত্ব বরণ করছি। পরিশেষে সকলের প্রতি মৈত্রীময় আহ্বান আসুন আমরা সত্যকে অবলম্বন করি, আলোর সন্ধান করি এবং প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে প্রকৃত সদ্ধর্মকে জানার চেষ্টা করি তাহলে আমাদের জীবন, পরিবার তথা সমাজ হবে সুন্দর। আর তা না হলে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে বসবাস করতে হবে।

লেখক: সুমনানন্দ ভিক্ষু
অধ্যক্ষ কাঁঠাল ভাঙ্গা সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার
হোয়ারাপাড়া
অর্থসম্পাদক- পূর্বগুজরা বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্মিলনী

Learn more »